প্রশ্ন: আমাদের দেশে অনেকে \'কোর্ট ম্যারেজ\' করে থাকেন। প্রশ্ন হলো, এই বিয়ে কি ইসলামি বিয়ে গণ্য হবে? নাকি ইসলামি নিয়মে নতুন করে বিয়ে করতে হবে?

উত্তর: আমাদের দেশে কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত একজন আইনজীবীর উপস্থিতিতে এফিডেভিট করা বোঝায়। যদি কোর্টে বিবাহ সম্পন্ন করার সময় দুইজন মুসলমান সাক্ষী উপস্থিত থাকেন এবং সেখানে শরঈ নিয়ম অনুযায়ী ইজাব ও কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব ও গ্রহণ সম্পন্ন হয়, তবে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে।

আর যদি দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল না হয়, শুধু কাগজে স্বাক্ষর করা হয়, তাহলে তা ইসলামি বিয়ে গণ্য হবে না। ইসলামি নিয়ম অনুসারে নতুন করে বিয়ে করতে হবে।

আরও পড়ুন

চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করলে কি আদৌ বিয়ে হয়?

ইসলামে বিয়ের আবশ্যিক শর্ত

ইসলামে বিয়ের আবশ্যিক শর্ত হলো:

১. ইজাব-কবুল করা অর্থাৎ এক পক্ষের প্রস্তাব আরেকপক্ষের গ্রহন করা।

২. দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর সামনে বিয়ে সম্পন্ন হওয়া এবং উভয়ে একসাথে ইজাব-কবুল শ্রবণ করা।

দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম নয় এবং নারী অন্য কারও সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নয়, তারা যদি দুজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর সামনে যথাযথ পদ্ধতিতে ইজাব-কবুল করে, তাহলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়।

অভিভাবকদের সম্মতি ও উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয়?

উপরোক্ত পদ্ধতিতে বিয়ে হলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়। তবে মনে রাখা দরকার, ইসলামে বিয়ে একটি মহৎ ইবাদত, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়। তাই বিয়ে বাবা-মাসহ পরিবারের মুরুব্বিদের পরামর্শে ও তত্ত্বাবধানে করাই সমীচীন। বিশেষত নারীর জন্য বাবা, ভাই বা তাদের অবর্তমানে অন্য অভিভাবকের মতামত ছাড়া বিয়ে করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। অনেক আলেমের মতে অভিভাবকদের মতামত ছাড়া বিয়ে করলে নারীর বিয়ে শুদ্ধ হয় না।

যেখানে দৈনন্দিন জীবনের ছোটোখাটো যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও আমরা পরিবারের প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করি, সেখানে বিয়ে যা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুগম্ভীর, দূরদর্শী ও স্পর্শকাতর এক অধ্যায় তা পরিবারকে না জানিয়ে বা লুকিয়ে করার চিন্তা কীভাবে করা যেতে পারে?

বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ক্ষণিকের আবেগের চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং পাত্র-পাত্রীর সামাজিক সমতার বিষয়গুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। এক্ষেত্রে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত জীবনের সম্মান ও শান্তি চিরতরে কেড়ে নিতে পারে।

আরও পড়ুন

কাজি ছাড়া একজন সাক্ষী থাকলে কি বিয়ে শুদ্ধ হবে?

তরুণ-তরুণীদের বোঝা দরকার যে, মা-বাবা কিংবা পরিবারের মুরুব্বিরা কখনোই তাদের অমঙ্গল চান না। তারা সন্তানের সুদূরপ্রসারী মঙ্গল, বিয়ের স্থায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই অনেক সময় তরুণ বয়সের তাড়াহুড়ো বা পছন্দকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন না।

তাই তাদের আপত্তির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে অনুধাবন না করতে পারলেও তরুণ-তরুণীদের উচিত তাদের অভিজ্ঞতা ও কল্যাণকামিতার ওপর ভরসা রাখা, বিয়ের জন্য তাড়াহুড়া না করা, প্রয়োজনে তাদের আরও বুঝিয়ে তাদের সম্মতি ও দোয়া নিয়েই বিয়ে করা।

ওএফএফ