প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। অল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। ক্যারিয়ারের এই সময়ে বেশ কয়েকজন গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন সালমান শাহ। তাদেরই একজন নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু।
আরও পড়ুন
শাকিব খানই কি বুবলীর মেয়ের বাবা, যা বললেন অঞ্জলি সাথী
দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় সালমান শাহ অভিনয় করেছেন ‘কন্যাদান’ সিনেমায়। সালমান শাহর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও তার ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন এই নির্মাতা।
সালমান শাহর প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ প্রসঙ্গে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, সিনেমাটি মুক্তির আগেই সালমান শাহ ও মৌসুমীকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার মতে, সিনেমায় সাফল্যের পেছনে ভাগ্যেরও বড় ভূমিকা থাকে।
সালমান শাহর সঙ্গে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে একটি মজার ঘটনা জানান ঝন্টু। তিনি বলেন, ‘কন্যাদান’ সিনেমার জন্য প্রথম লটে সালমানকে সাত দিনের শিডিউল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনদিন শুটিং করার পরই তার অংশের কাজ শেষ হয়ে যায়।
ঘটনাটি স্মরণ করে নির্মাতা বলেন, ‘তিনদিন শুটিং করে সালমানকে বললাম, চলে যা তুই, তোর কাজ শেষ। সালমান বলল, কী বলেন আপনি? সাতদিন সময় নিয়েছেন, তিনদিনে শুটিং করে ফেলছি! আপনি তো ভাই সাংঘাতিক। আপনার কাজ করে তো আমাদেরই সুবিধা। চট করে শেষ হয়, কোনো ডিস্টার্ব নাই।’
সালমান শাহর অকালমৃত্যু নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। তিনি বলেন, ‘এরপর ছেলেটা বেশিদিন লাস্টিং করে নাই! আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন।’
‘কন্যাদান’ সিনেমায় সালমান শাহকে নেওয়ার গল্পও জানান নির্মাতা। তার ভাষ্য, অভিনেত্রী ও প্রযোজক শাবানা তাকে সালমান শাহকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে সালমানের সঙ্গে কথা বললে তিনিও সিনেমাটিতে অভিনয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।সালমান শাহ ও লিমা
এ প্রসঙ্গে ঝন্টু বলেন, ‘শাবানা বললেন, সালমান শাহকে নেন। আমি বললাম, ঠিক আছে। আমি সালমানের সঙ্গে কথা বলি। পরে সালমান বলে, ‘করেন করেন। আমি তো আপনার সিনেমা করার জন্য বসে আছি’।’
‘কন্যাদান’-এ সালমান শাহর বিপরীতে লিমাকে নেওয়া হয়েছিল। এই কাস্টিং নিয়েও সালমানের আপত্তি ছিল না বলে জানান নির্মাতা। তার ভাষ্য, সালমান লিমার আগের সিনেমার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে এই জুটিতে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন।
সালমান শাহর জনপ্রিয়তা ও কাস্টিং ভ্যালু নিয়েও কথা বলেন ঝন্টু। তার মতে, সালমান শাহ বেঁচে থাকা পর্যন্ত তার কাস্টিং ভ্যালু ছিল। কোনো শিল্পীর একটি-দুটি সিনেমা হিট করলেই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
‘একদিন আমরা শাকিব খানকে লাঞ্ছিত করেছি, আজ সে প্রতিশোধ নিচ্ছে’
এ সময় শাকিব খানের প্রসঙ্গও আসে। শাকিব খানকে জনপ্রিয়তা পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি বলে মনে করেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। তিনি বলেন, ‘খুব বেশিদিন লাগে নাই। চার-পাঁচটা সিনেমা করছে, এরপরই তো ‘বিষে ভরা নাগিন’। শাকিবের টাইম লাগে নাই।’
সালমান শাহ ও লিমার জুটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রেমযুদ্ধ’ ও ‘কন্যাদান’-এর সেই জুটি সময় পেরিয়েও রয়ে গেছে। নব্বই দশকের দর্শকের কাছে এই জুটি এখনো নস্টালজিয়ার নাম।
এমআই/এলআইএ





